কানাডায় অমর একুশে ও মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

কানাডাজুড়ে গভীর ভাবগাম্ভীর্য, মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশীয় ঐতিহ্য, ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণসভায়। কানাডার বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মাতৃভাষার অধিকার ও তার তাৎপর্য তুলে ধরেছেন।

অটোয়ায় হাইকমিশনের আয়োজন

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে দিবসটি পালন করা হয়। সকালের কর্মসূচিতে হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সকল শহীদ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন:

“মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন কেবল সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে শিকড়ের সংযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ গঠিত সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

উইনিপেগে যৌথ উদ্যোগের অনুষ্ঠান

কানাডার উইনিপেগ শহরে ইউনিভার্সিটি অব ম্যানিটোবা ও স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো যৌথভাবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অংশ নেন ম্যানিটোবা লার্নিং সেন্টার, কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানিটোবা, বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ম্যানিটোবা বাংলাদেশ ভবন, এবং বেঙ্গল টাইগারস ক্রিকেট ক্লাব।

উল্লেখযোগ্য আলোচক ছিলেন ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এবং হেলাল মহিউদ্দিন। আলোচনায় মাতৃভাষার তাৎপর্য, জাতিসত্তা ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণে বাংলার গুরুত্ব এবং প্রবাসে জন্মানো দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশুদের জন্য ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রদর্শন করে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সম্পন্ন করেন।

নিচের টেবিলে অনুষ্ঠানে অতিথিদের নাম, পদবী/সংগঠন ও বক্তৃতার মূল বিষয় তুলে ধরা হলো:

অতিথিপদবী/সংগঠনমন্তব্যের বিষয়
নেইলি কেনেডিম্যানিটোবা সরকার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রীবহু সংস্কৃতির শক্তি হিসেবে ভাষার গুরুত্ব
জেনিফার চেম্যানিটোবা লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি সদস্যপ্রবাসে ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্ব
ডেভিড প্লেঙ্কেজম্যানিটোবা লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি সদস্যসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয়
জেনিস লুকাসউইনিপেগ ডেপুটি মেয়রভাষা ও সংস্কৃতির সংহতি প্রচেষ্টা

অনুষ্ঠানে কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ও ছাত্র সংগঠনসহ প্রবাসী তরুণরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহমুদুর রহমান ভূঁইয়া, সহসভাপতি, ম্যানিটোবা লার্নিং সেন্টার।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কানাডার এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতন নন, তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে জাতীয় চেতনা ও ইতিহাসের সংযোগও রক্ষা করছেন।