শিক্ষাভবন মোড় অবরোধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, পুলিশের নজরদারি জোরদার

ঢাকা শহরের সরকারি সাত কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলন দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবন মোড়ে টানা তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ওই এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও রায়টকার।

সকাল গড়াতেই প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা ভবন মোড়ের চারপাশে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা “অধ্যাদেশ চাই এখনই”, “আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টালবাহানা চলবে না”—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাদেশ জারিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও ডিগ্রি কাঠামো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা তাদের একাডেমিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বারবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা স্পষ্ট রোডম্যাপ না পাওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, আলোচনার টেবিলে বসতেই আগ্রহী। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে পারে না। কর্তৃপক্ষ যদি সময়মতো সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে আজ রাজপথে নামতে হতো না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি এবং তা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার বলেন, “অধ্যাদেশ জারির বিলম্ব আমাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হবে—এই আশায় আমরা ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কখন, কীভাবে হবে—এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। জবাবদিহি না থাকলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

শিক্ষার্থীদের মতে, প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে, একাডেমিক স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে। বর্তমানে সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকায় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্ব, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সংকট দেখা দেয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, সরকারি সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গুজব এড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়। তবে নীতিগত সিদ্ধান্তের পরও অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট সময়সূচি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বেড়েছে।

নিম্নে সরকারি সাত কলেজ ও প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
প্রস্তাবিত নামঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অন্তর্ভুক্ত কলেজঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজসহ ৭টি সরকারি কলেজ
বর্তমান অবস্থাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিদ্রুত অধ্যাদেশ জারি
আশঙ্কাএকাডেমিক অনিশ্চয়তা ও ক্যারিয়ার ঝুঁকি
সরকারের অবস্থাননীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সময়োপযোগী সিদ্ধান্তই পারে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে।