শাহিনা আক্তার চৌধুরী (আনুষ্ঠানিক নাম শাহীন আক্তার) একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি কক্সবাজার-৪ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী -লীগের মনোনয়নে সংসদ -সদস্য নির্বাচিত হন।
Table of Contents
শাহিনা আক্তার চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক জীবন
শাহীন- আক্তার কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নূরুল ইসলাম চৌধুরী (ঠাণ্ডা মিয়া) ও মাতার নাম গুলজার বেগম। তার পিতা উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বামী আব্দুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ আসনের নবম ও দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
২০০৮ সালে শাহীন সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তার স্বামীর সমর্থনে সেটি প্রত্যাহার করে নেন। তবে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও তার স্বামী আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহে বাংলাদেশের মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম আসার পর গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেটি নিয়ে সমালোচনা হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার-৪ আসনের বদির পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন প্রদান করে। নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বাংলা: বাংলাদেশ গণসংঘ) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।
পরবর্তী কালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম “আওয়ামী লীগ” করা হয়।
ইতিহাস

প্রতিষ্ঠা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন টাঙ্গাইলের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক।
পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়; নাম রাখা হয়: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।
আওয়ামী লীগের জন্মসূত্রের সঙ্গে ঢাকা ১৫০ নম্বর মোগলটুলিস্থ পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবিরের উদ্যোগের সম্পর্ক অনস্বীকার্য। ২৩ জুনের সম্মেলনের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শওকত আলী। তার উদ্যোগে ১৫০ নং মোগলটুলিস্থ শওকত আলীর বাসভবন এবং কর্মী শিবির অফিসকে ঘিরে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতিমূলক তৎপরতার পর ২৩ জুনের কর্মী সম্মেলনে দলের ঘোষণা দেয়া হয়।
শওকত আলীর অনুরোধে কলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি মামলা পরিচালনার কাজে ঢাকায় এলে তিনি শওকত আলীকে মুসলিম লীগ ছেড়ে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শওকত আলী এ পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবিরের নেতৃবৃন্দকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন। এসময় কর্মী শিবিরের প্রধান নেতা ছিলেন শামসুল হক।
আরও দেখুনঃ