শাহজাহান চৌধুরী হলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য। তিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য।
শাহজাহান চৌধুরী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

কর্মজীবন
শাহজাহান চৌধুরী প্রথম ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী অলি আহমেদের নিকট পরাজিত হন।
২০০১ সালের তার দল জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে উভয় দল পৃথকভাবে নির্বাচন করে এবং তাতে শাহাজাহান চৌধুরী বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতত্ব নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন কিন্তু পরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করে নেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যার পূর্বনাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন এই দলের উদ্দেশ্য। দলটি ইকামতে দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) নামক মতাদর্শকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং একে “রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা” অর্থে দলীয় ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে।
এটি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর একটি শাখা এবং তা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড-এর আদর্শ ধারণ করে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতের নিবন্ধন সম্পর্কিত একটি রুলের রায়ে এই সংগঠনের নিবন্ধন অবৈধ এবং একে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের পরিমণ্ডলে আলোচ্য সংগঠনটিকে ‘জামায়াত’ বলেও উল্লেখ করা হয়। জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির (পূর্বেকার নাম: ইসলামী ছাত্র সংঘ)-এর একটিকে বোঝাতে ‘জামায়াত-শিবির’ শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী, এই দুই সংগঠনের অঙ্গ ও সমমনা সংগঠনসমূহের কর্মী, এদের সবকয়টির সমর্থকগোষ্ঠী – এদের সবাইকে বোঝাতে ‘জামায়াতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধিতা করেছিল। প্রায়শই জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার পিছনে ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থকে সামনে আনে। দলটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যায় সহযোগিতা করেছিল।
আরও দেখুনঃ