ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম নবগঠিত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে দলীয় ও সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত বলেই বিবেচিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন জোটের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর–২ আসনে তিনি ১,২১,৬৯৪ ভোট পেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩২,৩৮৯। এই ফলাফল তাঁকে ফরিদপুর জেলার অন্যতম শক্তিশালী জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সাফল্য ও সংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ই তাঁকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
নিচে তাঁর নির্বাচনী ও সাংগঠনিক পরিচিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্বাচনী এলাকা | ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা, সালথা) |
| দলীয় পরিচয় | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল |
| প্রাপ্ত ভোট | ১,২১,৬৯৪ |
| বিজয়ের ব্যবধান | ৩২,৩৮৯ ভোট |
| বর্তমান দলীয় পদ | কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক |
শামা ওবায়েদ প্রয়াত কে. এম. ওবায়দুর রহমানের কন্যা। কে. এম. ওবায়দুর রহমান ছিলেন দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী, যিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশেষত তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মীদের সক্রিয়করণ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারে তাঁর ভূমিকা দলীয় মহলে প্রশংসিত।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি শিক্ষা সংস্কার, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত গণসংযোগ তাঁর জনভিত্তি সুদৃঢ় করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তৃণমূল সংগঠন ও সংসদীয় রাজনীতিতে সমান দক্ষতা প্রদর্শনের কারণেই তাঁকে নির্বাহী দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর সম্ভাব্য নিয়োগ সরকারের তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশলের অংশ। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় সংগঠন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতেও তাঁর অভিজ্ঞতা কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, শামা ওবায়েদের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য শপথ কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়; এটি তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতি, নির্বাচনী বৈধতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে জাতীয় শাসন কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে।
