বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু হলো—জান্নাতী আক্তার (১১) ও লামিয়া আক্তার (৮)। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দারিয়ালা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতী মুস্তাইন শেখের মেয়ে এবং লামিয়া মোস্তাক শেখের মেয়ে। পারিবারিকভাবে তারা চাচাতো বোন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দাদী নাছিমা বেগমের সঙ্গে বাড়ির কাছের একটি মাছের ঘেরে যায় জান্নাতী ও লামিয়া। ঘেরের পানিতে থাকা শাপলা তুলছিল তারা। একপর্যায়ে দুই শিশু পানিতে ডুবে যায়।
শিশু দুটির পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ঘেরের পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত চুনখোলা এলাকার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জান্নাতী ও লামিয়াকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। সকালবেলা দাদীর সঙ্গে বাড়ির কাছেই যাওয়া দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিকভাবে তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে পুকুর, মাছের ঘের ও অন্যান্য জলাশয় থাকায় শিশুদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলাশয়ে পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিও তৈরি হয়। পানির ওপর থেকে অনেক সময় তলদেশের গভীরতা বা কোথায় পা রাখা নিরাপদ, তা বোঝা যায় না। ফলে শিশুদের জলাশয়ের কাছে যেতে হলে প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি নজরদারি থাকা জরুরি।
মোল্লাহাটের দারিয়ালা গ্রামে দুই চাচাতো বোনের এই মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, বাড়ির কাছের জলাশয়ও শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কয়েক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনায় দুটি পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা এখন পুরো পরিবারকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।









