বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে, উপজেলার মধ্যম বাইশারী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়িটির মালিক মৌলভি কবির উদ্দিন। তিনি তার তিন ছেলের বিয়ে দেওয়ার পর প্রত্যেককে আলাদা সংসার পরিচালনার সুযোগ দিলেও সবাই একই টিনশেড ঘরের ভেতরে পৃথকভাবে বসবাস করছিলেন। ফলে ওই ঘরে একসঙ্গে চারটি পরিবার অবস্থান করছিল।
প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ গভীর রাতে ঘরের একাংশে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের টিন, কাঠ ও আসবাব দ্রুত দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা আতঙ্কিত হয়ে যে যার মতো বাইরে বেরিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হলেও ঘরের ভেতরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সময় ভেতর থেকে বারবার ‘ঠুসঠাস’ শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা সাধারণ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে মিলছে না। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দাহ্য পদার্থ কিংবা গানপাউডারের মতো কিছু ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বসতঘরটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিচে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| ক্ষয়ক্ষতির ধরন | আনুমানিক পরিমাণ |
|---|---|
| বসতঘর (টিনশেড) | সম্পূর্ণ ধ্বংস |
| আসবাবপত্র | প্রায় সবকিছু |
| স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ | সম্পূর্ণ পুড়ে যায় |
| মোট আর্থিক ক্ষতি | প্রায় ৪০ লাখ টাকা |
এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।