লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপশহর দাহিয়েহতে ইসরাইলি হামলায় দেশটির সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষ কমান্ডারসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৩ নভেম্বর) ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়। পরে হিজবুল্লাহও তাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতার নিহত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
ইসরাইলের দাবি, নিহত হিজবুল্লাহ নেতার নাম হাইথাম আলী আল-তাবতাবাই। তিনি সংগঠনটির চিফ অব স্টাফ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সামরিক পরিকল্পনা, সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-তাবতাবাই হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব কাঠামোয় দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। দাহিয়েহ এলাকার একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়, যার ফলে আশপাশের ভবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশু থাকার তথ্যও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে আল-তাবতাবাইয়ের নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, ইসরাইল এই হামলার মাধ্যমে একটি ‘গুরুতর সীমারেখা’ অতিক্রম করেছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এ ঘটনার জবাব তারা উপযুক্ত সময়ে ও উপযুক্ত উপায়ে দেবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় দক্ষিণ লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তার পর দক্ষিণ বৈরুতে এটি ইসরাইলের প্রথম বড় ধরনের হামলা।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। চোরাপথে লেবাননে অস্ত্র আনা, বিস্ফোরক ড্রোন তৈরি এবং রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিযোগও তোলে তারা। এসব কারণে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জিলাইভ/টিএসএন
