মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা ছুঁয়েছে। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা বৈরুতের বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধ করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। হিজবুল্লাহকে কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে তারা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকির প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ হাইফা শহরের একটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশেষত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি দাহিয়েহ এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান কয়েক দফা বোমাবর্ষণ চালায়। বিস্ফোরণে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কাচ ভেঙে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
হামলার বিস্তারিত ও পরিসংখ্যান
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার তারিখ | ২ মার্চ |
| নিহতের সংখ্যা | ৩১ জন |
| আহতের সংখ্যা | ১৪৯ জন |
| প্রধান লক্ষ্যবস্তু | হিজবুল্লাহর ঘাঁটি |
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | বৈরুতের দক্ষিণ অংশসহ অন্যান্য এলাকা |
| ইসরাইলের যুক্তি | উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলার জবাব |
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র আকার নিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাবিনিময় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি বড় পরিসরের সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
লেবাননের সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সরকারের ভাষ্য, অব্যাহত হামলা সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে এবং দেশের অবকাঠামোগত ক্ষতি বাড়াচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার নতুন সংকেত দিচ্ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
