চেলসির নতুন যুগ নিয়ে অনেক আশার জন্ম হয়েছিল। এঞ্জো মারেস্কাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তরুণদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গতিময় ফুটবল এবং চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠার স্বপ্ন সমর্থকদের মনে নতুন আলো জ্বালিয়েছিল। কিন্তু সেই আলো গত কয়েক ম্যাচে যেন নিভে যেতে বসেছে। এরই সর্বশেষ উদাহরণ—অবনমন অঞ্চলে লড়াই করা লিডস ইউনাইটেডের কাছে লজ্জার ১-৩ হার।
চেলসির বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু থেকেই লিডসের আক্রমণাত্মক কৌশল চমকে দেয় ব্লুজদের। প্রথমার্ধেই দুইবার পিছিয়ে পড়ে মারেস্কার দল। লিডসের গতিময় ট্রানজিশন ফুটবলে বারবার ভাঙতে থাকে চেলসির ডিফেন্স লাইন। গোলকিপার স্লোনিনা ও ডিফেন্ডার তিয়াগো সিলভা বারবার চেষ্টা করলেও দলের মাঝমাঠে সংযোগহীনতা এবং ডিফেন্সিভ ব্লকের ভুল ম্যাচটিকে ধ্বংস করে দেয় চেলসির জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেদ্রো নেতোর গোল আশা জাগালেও ৭২ মিনিটে আরও এক গোল খেয়ে পুরো ম্যাচের সমাপ্তি আগেই টেনে দেয় ব্লুজরা। এই গোলের পর দলটিকে আর মাঠে লড়াইয়ে আগ্রহী মনে হয়নি। তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব আবারও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
তবে চেলসির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ধারাবাহিকতার অভাব। লিগে এক ম্যাচে দুর্দান্ত খেললেও পরের ম্যাচে ভরাডুবি—এটাই বারবার ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, মারেস্কার কৌশল ভালো হলেও তা মাঠে প্রয়োগ করার মতো স্থিরতা খেলোয়াড়দের নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত স্ট্রাইকারের অভাবও ফুটে উঠেছে।
২৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকলেও চেলসি এখন হুমকির মুখে। শীর্ষ তিনের দলগুলোর সাথে পয়েন্টের ব্যবধান বাড়ছে, এবং এখন লিগ টেবিলের মাঝামাঝি থাকা দলগুলোর আক্রমণেও ভয় পাচ্ছে ব্লুজরা। এই ধারাবাহিকতা যদি না বদলায়, চেলসির জন্য মৌসুমটি হতে পারে অপূর্ণ প্রত্যাশা ও হতাশার প্রতিচ্ছবি।
