রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা গণ–অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিবি কার্যালয় থেকে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আদালতে রিমান্ড আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, তাদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও অজ্ঞাত রাজনৈতিক কর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল (ফাহিম) গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ওই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিকল্পনায় এই ঘটনা সংঘটিত হয়। মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তৃতীয় নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
ডিবির পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য দিলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তদন্ত সংস্থা মনে করছে, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তসহ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে। পাশাপাশি তাকে জামিনে মুক্তি দিলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পলাতক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানায় পুলিশ। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম (সংবাদমাধ্যম: প্রথম আলো) জানান, তার বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক হত্যা মামলাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে এবং বাকি তিনটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং অভিযোগগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মামলার স্থান | লালবাগ থানা, ঢাকা |
| ঘটনার সময় | ১৮ জুলাই ২০২৪ |
| অভিযোগ | সহিংসতা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা |
| প্রধান অভিযোগকারী | মো. আশরাফুল (ফাহিম) |
| আহতের অবস্থা | এক চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত |
| আসামি | শিরীন শারমিন চৌধুরী (৩ নম্বর আসামি) |
| অন্যান্য আসামি | শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি |
| বর্তমান অবস্থা | রিমান্ড আবেদন বিচারাধীন |
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিটি দিক গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানিতে রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
