আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে র্যাবের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১৬৩টি যানবাহন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড’ এসব যানবাহন সরবরাহ করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি–এর সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রয়যোগ্য ১৬৩ যানবাহনের ধরন ও সংখ্যা নিচের মতো:
| যানবাহনের ধরন | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জিপ | ৩ | উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন ও আভিযানিক কাজে ব্যবহার |
| পেট্রোল পিকআপ | ১০০ | মাঠে দ্রুত মোবাইল অপারেশন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে |
| মাইক্রোবাস (এসি) | ৬০ | বহুল সংখ্যক দলের বহন ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনায় |
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এসব যানবাহন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়সাপেক্ষ বিধায় এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও র্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়:
| ক্রয়ের ধরণ | সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান | পরিমাণ | ব্যয় (বাংলাদেশি টাকা) |
|---|---|---|---|
| এলএনজি কার্গো | আরামকো ট্রেডিং (সিঙ্গাপুর) | ৫টি | তথ্য নির্দিষ্ট নয় |
| বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার | ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন (ইউএই) | ৪০,০০০ মেট্রিক টন | ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার |
| এমওপি সার | জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন (রাশিয়া) | ৩৫,০০০ মেট্রিক টন | ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার |
| পরিশোধিত সয়াবিন তেল | সুপার অয়েল ও শবনম ভেজিটেবল অয়েল | ১ কোটি লিটার | ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার |
| মসুর ডাল | কেবিসি এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড | ১০,০০০ মেট্রিক টন | ৭০ কোটি ৯৬ লাখ |
| ছোট রিসার্চ ভ্যাসেল ও স্পিডবোট | খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড | ১ ভ্যাসেল, ২ বোট | ১৬১ কোটি ৭১ লাখ |
সভায় রাষ্ট্রীয় সমুদ্র গবেষণা ও জরিপ কার্যক্রমের জন্য কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট–কে নতুন গবেষণা সরঞ্জাম, স্যাম্পল কালেকশন ও চলমান গবেষণার জন্য সরাসরি ক্রয়ে ১টি ছোট রিসার্চ ভ্যাসেল এবং ২টি স্পিডবোট সরবরাহ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এই উদ্যোগগুলো সরকারের নির্বাচনী প্রাক্কালে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আভিযানিক কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং জরুরি গবেষণার জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি–এর লক্ষ্যপ্রাপ্ত। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি নির্ধারণের ফলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
