রোবট কুকুরে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে মেক্সিকো। যৌথ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে এই বৈশ্বিক আসর আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামাচ্ছে চার পায়ে হাঁটা অত্যাধুনিক রোবট কুকুর। ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় মানুষের পরিবর্তে এসব রোবটকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ সদস্যদের প্রাণঝুঁকি কমানো যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোবট কুকুরগুলোতে সংযুক্ত রয়েছে উচ্চমানের ক্যামেরা, লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং সুবিধা, লাউডস্পিকার এবং দূরনিয়ন্ত্রিত চলাচল ব্যবস্থা। কোনো পরিত্যক্ত ভবন, সংকীর্ণ গলি বা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়েছে—এমন স্থানে প্রথমে এই রোবট প্রবেশ করবে। সেখান থেকে সরাসরি ভিডিও ও অডিও সংকেত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠানো হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন হলে পুলিশ সদস্যরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

মেক্সিকোর মন্তেরে শহরের পার্শ্ববর্তী গুয়াদালুপে সিটি কাউন্সিল প্রায় ২৫ লাখ পেসো ব্যয়ে এই রোবটগুলো সংগ্রহ করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক দেড় কোটি টাকার সমপরিমাণ। গুয়াদালুপে এলাকায় বিশ্বকাপের একটি ভেন্যু থাকায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একটি রোবট কুকুর পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর দিয়ে সতর্ক ভঙ্গিতে অগ্রসর হচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেও সক্ষম হয়েছে সেটি। কিছুটা সময় নিলেও ভারসাম্য রক্ষা করে উঁচু তলায় পৌঁছাতে দেখা যায় তাকে। এ সময় রোবটটির পেছনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এগোচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, একপর্যায়ে রোবটটি এক সশস্ত্র ব্যক্তির সামনে পৌঁছে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তাকে অস্ত্র নামানোর নির্দেশ দেয়।

গুয়াদালুপের মেয়র হেক্টর গার্সিয়া বলেন, “এই রোবট কুকুরের মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক অভিযানে পুলিশকে সহায়তা করা এবং কর্মকর্তাদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা জিম্মি পরিস্থিতিতে এগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” তাঁর মতে, প্রযুক্তির সহায়তায় ঝুঁকি কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এটি হবে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিশ্বকাপ, যেখানে ম্যাচের সংখ্যা ও অংশগ্রহণকারী দলের পরিমাণ আগের আসরের তুলনায় বেশি। মন্তেরের বিবিভিএ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে চারটি ম্যাচ; টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়ামটির নাম হবে ‘এস্তাদিও মন্তেরে’।

নিচে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
টুর্নামেন্টের সময়সূচি১১ জুন – ১৯ জুলাই ২০২৬
যৌথ আয়োজক দেশমেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা
রোবট ক্রয়ের ব্যয়২৫ লাখ পেসো (প্রায় দেড় কোটি টাকা)
ব্যবহারের উদ্দেশ্যঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি ও প্রাথমিক অভিযান
মন্তেরে ভেন্যুতে ম্যাচ৪টি
স্টেডিয়ামের নাম (টুর্নামেন্টে)এস্তাদিও মন্তেরে

বিশ্বকাপের মতো উচ্চপ্রোফাইল আন্তর্জাতিক আসরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব সময়ই আয়োজক দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে রোবট কুকুরের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ শুধু অভিনবই নয়, বরং ভবিষ্যতের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।