রেললাইনে সেলফি: যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় রেললাইনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার পর ফেসবুকে পোস্ট করা এক যুবকের ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বাগমারা দুধ বাজারের বাইপাস এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মহি উদ্দিন (৩২) বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মহি উদ্দিন সকালে তার অটোরিকশা নিয়ে বাগমারা বাজারে যান। সেখানে রেললাইনের পাশের একটি স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি একটি সেলফি তোলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছবিটি পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকাগামী ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মহি উদ্দিন সরে পড়ার চেষ্টা করলেও সময় হয়ে ওঠে না, এবং তিনি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মহি উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন, কিন্তু তারা সেলফি তোলার সময় দূরে ছিলেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে সাতটায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করছিল। সম্ভবত সেই ট্রেনে কাটা পড়েই মহি উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, তবে নিহতের স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।”

স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইনের পাশের এলাকায় সেলফি তোলা যুবকদের মধ্যে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার জন্য রেললাইনে দাঁড়ানো একটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সেলফি তোলার সময় ছোট একটি ভুলও জীবনলুণ্ঠন করতে পারে।

নিহতের তথ্য এবং দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
নামমহি উদ্দিন
বয়স৩২ বছর
ঠিকানাপশ্চিম চেঙ্গাহাটা, শিলমুড়ি ইউনিয়ন, বরুড়া উপজেলা
পেশাঅটোরিকশা চালক
দুর্ঘটনার স্থানবাগমারা দুধ বাজার বাইপাস, লালমাই উপজেলা, কুমিল্লা
সময়রোববার সকাল সাড়ে ৭টা
ট্রেনউপকূল এক্সপ্রেস (ঢাকা-নোয়াখালী)
ঘটনায় মৃত্যুঘটনাস্থলেই

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মহি উদ্দিন ছিলেন দায়িত্বশীল এবং সতর্ক প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ছবি তোলার আনন্দে তিনি এই মারাত্মক ভুল করে বসেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি রেলওয়ে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যে কেউ রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গেলে তা জীবনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রেললাইনের নিরাপত্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং বিশেষ করে যুবকদের অনলাইনে ছবি শেয়ার করার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র চেতনা বাড়ানো যথেষ্ট নয়, বরং রেললাইনের পাশে ‘সেলফি জোন’ সংক্রান্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তির সুবিধা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আকর্ষণ কখনও কখনও প্রাণঘাতী ভুলের কারণ হতে পারে। তাই রেলপথের নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।