রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি বঙ্গভবনে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিদায়ের প্রাক্কালে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছিল। রাষ্ট্রপতি অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তি সম্পর্কে তাকে কোনো ধরনের তথ্য প্রদান করা হয়নি – না মৌখিকভাবে, না লিখিতভাবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “যে কোনো রাষ্ট্রীয় চুক্তি হলে তা রাষ্ট্রপতিকে জানানো বাধ্যতামূলক। এটি শুধু শিষ্টাচারের বিষয় নয়, সাংবিধানিক দায়িত্বও।” তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা সবসময় এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সমন্বয় করতেন, কিন্তু ড. ইউনূস তা করেননি।
বিদেশ সফর ও সমন্বয়ের অভাব
রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেছেন যে, প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের বিধান অমান্য করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশ সফরের পর রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত ১৪–১৫ বার বিদেশ সফর করেছেন। কোনোবারই আমাকে তথ্য দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দুটি বিদেশ সফর আটকা দেওয়া হয়েছিল – একবার কসোভোতে এবং একবার কাতারে। কাতারের আমিরের আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতিকে সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তবুও কোনো কার্যকর আলোচনা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও সম্মান হরণ
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার তার ছবি বিশ্বের বিভিন্ন বাংলাদেশি কনস্যুলেট ও হাইকমিশন থেকে অপসারণ করেছিল, যা তিনি রাষ্ট্রীয় অপমান হিসেবে বিবেচনা করেন। এছাড়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে তার সঙ্গে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎক্রমে প্রেস উইং-এর তিন কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক অপসারণ করা হয় এবং ফটোগ্রাফারদের প্রত্যাহার করা হয়। ফলে প্রেস উইং কার্যত শূন্য হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার ছবি ও বাণী অন্তর্বর্তী সরকার প্রকাশে অন্তর্ভুক্ত করেনি, যা তার জনসমক্ষে পরিচয় ও প্রভাব কমিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের পার্থক্য
| বিষয় | রাষ্ট্রপতির অভিমত | অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রীয় চুক্তি | জানানো আবশ্যক | রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়নি |
| বিদেশ সফর | রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক | ১৪–১৫ বার সফর, কোনো রিপোর্ট নেই |
| প্রেস উইং | পূর্ণ কার্যক্ষম | পুরো উইং শূন্য, কর্মকর্তারা প্রত্যাহার |
| রাষ্ট্রীয় ছবি | বিশ্বব্যাপী প্রদর্শন | হঠাৎ অপসারণ |
| জাতীয় অনুষ্ঠান | অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক | অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে |
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, এই সব ঘটনা তার প্রতি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অপমানের চিহ্ন এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূলত তাকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিল, যাতে জনগণ রাষ্ট্রপতিকে চেনে না।
রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকারে বলেন, “এ ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে সাংবিধানিক সমন্বয় ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। আমি সবসময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি, তা সত্ত্বেও আমাকে একাধিকবার অপমান ও উপেক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র সামনে এনেছে।
