লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার (১৫ মার্চ) রাতে উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শুকুর মিয়াজি (৬০)। তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, রোববার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ওৎ পেতে থাকা শুকুর মিয়াজি নির্জন স্থানে শিশুটির গতিরোধ করেন এবং তাকে পাশ্ববর্তী একটি গোপন স্থানে টেনে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শিশুটির চিৎকারে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সটকে পড়েন।
পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিস্তারিত বর্ণনা দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিশুটির মা নেই এবং তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখেও পিছু হটেননি তার স্বজনরা। ওইদিন সন্ধ্যায় শিশুটির খালা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
অভিযুক্তের দাবি ও জনরোষ
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। রাত ১০টার দিকে গ্রামবাসী অভিযুক্ত শুকুর মিয়াজিকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত শুকুর মিয়াজি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি,
“শিশুটির মা নেই এবং তারা দরিদ্র। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আমি তাকে স্নেহের বশে খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম এবং মাথায় হাত বুলিয়ে ঈদের জামা দেওয়ার কথা বলেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও এলাকার কিছু কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে।”
তবে প্রাথমিক তদন্তে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযুক্তের নাম | শুকুর মিয়াজি (৬০) |
| রাজনৈতিক পরিচয় | ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি |
| ঘটনার সময় | রোববার সকাল ১১টা (১৫ মার্চ, ২০২৬) |
| গ্রেফতারের সময় | রোববার রাত ১০টা |
| অভিযোগের ধরণ | স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী শিশুর খালা |
| আইনি পদক্ষেপ | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা |
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। ভুক্তভোগী শিশুর খালার দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে অভিযুক্ত শুকুর মিয়াজিকে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। ভুক্তভোগী শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এমন বার্তাই দিচ্ছেন এলাকাবাসী। শিশু নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
