রায়পুরের মাঠে বুধবার যেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিলেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো পা শক্ত করে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি তিনি। মাত্র সপ্তম ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল টপঅর্ডারের এই সম্ভাবনাময় ব্যাটারের। কিন্তু আটতম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন—সময় পেলেই তিনি ভয়ংকর হয়ে উঠতে জানেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর আগ্রাসী ব্যাট থেকেই উপহার মিলল ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। ইনিংসের পাওয়ার প্লেতে ভারত হারায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৬৫ রান। কিন্তু এখান থেকেই খেলা ঘুরিয়ে দেন ঋতুরাজ ও বিরাট কোহলি। দুজনের জুটি ভারতের ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিরাটের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ১৫৬ বলে দুর্দান্ত ১৯৫ রান—যা পুরো ম্যাচের গতিপথই পাল্টে দেয়।
এই জুটির সময়ই ৭৭ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ঋতুরাজ। আত্মবিশ্বাসপূর্ণ ড্রাইভ, শক্তিশালী পুল শট আর নিখুঁত টাইমিং—সব মিলিয়ে তাঁর পুরো ইনিংসটি দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে উপভোগ্য। শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে মাত্র ৮৩ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ১০৫ রান করেন তিনি। এর মাধ্যমে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের জায়গাটি আরও দৃঢ়ভাবে জানান দেন তিনি।
শুধু ঋতুরাজ নয়, তাঁর পথ ধরে এগিয়ে যান বিরাট কোহলিও। সেঞ্চুরি থেকে ঠিক কিছু সময় দূরে থাকতে থাকতে তিনিও পরিণত ইনিংস খেলেন। ৯৩ বলে ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল দায়িত্ব, ছিল আস্থা, আর ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখার দারুণ দক্ষতা।
ঋতুরাজ এর আগে টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। ২৩টি টি-টোয়েন্টি ও আটটি ওয়ানডে মিলিয়ে এখন তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি সংখ্যা দাঁড়াল দুটি। সমালোচকদের উত্তর দিতে হয়তো এর চেয়ে ভালো উপায় আর ছিল না।
যে মুহূর্তে দুটি সেঞ্চুরি উঠে গেল ভারতের স্কোরবোর্ডে—ম্যাচের চিত্র তখন স্পষ্ট। ভারত আবারও রানের পাহাড় গড়ার পথে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে কোহলির সেঞ্চুরিতে ভারত করেছিল ৩৪৯ রান এবং জিতেছিল ১৭ রানে। আজ রায়পুরেও সেই রথযাত্রা যে অব্যাহত থাকবে—তার ইঙ্গিত ছিল শুরুতেই।
ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের যে আগুন ঝরানো সক্ষমতা রয়েছে, তারই আরেকবার প্রমাণ রাখলেন ঋতুরাজ ও কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কাছে বল করার মতো কোনো জায়গাই তাঁরা রাখেননি। স্টেডিয়ামজুড়ে থেমে থেমে শোনা যাচ্ছিল হাততালি আর উল্লাস। রায়পুরের দর্শকদের কাছে দিনটি হয়ে থাকবে স্মরণীয়—কারণ নতুন তারকার উত্থান তো আর প্রতিদিন দেখা যায় না।
