কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মো. বাবুল (৩৫) নামের এক ইজিবাইক চালককে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত বাবুল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন একটি নির্জন রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে এবং পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতের গলার শ্বাসনালী ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীরভাবে কাটা ছিল, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে হত্যাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
নিহত মো. বাবুলের জীবনবৃত্তান্ত ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| নাম | মো. বাবুল (৩৫) |
| পিতার নাম | মৃত আব্দু সালাম |
| স্থায়ী ঠিকানা | স্বপ্নতরী আদর্শগ্রাম, রশিদনগর ইউনিয়ন, রামু। |
| পারিবারিক অবস্থা | স্ত্রী ও ৩ সন্তানের জনক। |
| ঘটনার স্থান | দক্ষিণ পাড়া এলাকা, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন। |
| ঘটনার সময় | ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (রাত)। |
| প্রাথমিক কারণ | ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা। |
পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল হারাল তিন শিশু
নিহত বাবুল রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী আদর্শগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই জানান, সোমবার সন্ধ্যায়ও হাসিমুখে বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছিলেন বাবুল। বড় ভাইয়ের সাথে সেটাই ছিল তাঁর শেষ কথা। তিন সন্তানের জনক বাবুল হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রীর আহাজারিতে স্বপ্নতরী গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে; গ্রামবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশের তদন্ত ও ছিনতাইয়ের সন্দেহ
রামু থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মো. ফরিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইজিবাইক বা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা। সম্ভবত দুর্বৃত্তরা যাত্রীর বেশে ইজিবাইকে উঠে কোনো নির্জন স্থানে গিয়ে চালক বাবুলের ওপর হামলা চালায়। তাঁর ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ
এই হত্যাকাণ্ডের পর রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও রশিদনগর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক ও ছিনতাইকারী চক্রের আনাগোনা বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে নির্জন সড়কগুলোতে ছোট যানবাহনের চালকরা প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। বাবুলের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
উপসংহার
একজন শ্রমজীবী ইজিবাইক চালককে এভাবে প্রাণ দিতে হওয়া কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরও ইঙ্গিত। তিন সন্তানের পিতা বাবুলের রক্তভেজা স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগেই পুলিশ ঘাতকদের খুঁজে বের করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের বেলায় পুলিশের টহল জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
