রাবিতে কড়া ব্যবস্থা: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি এক বিশেষ সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে তিন শিক্ষককে বরখাস্ত এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে দণ্ডিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক ড. আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অনীক কৃষ্ণ কর্মকারকে তিন বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাকে আগামী ১০ বছর পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার এবং ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত কমিটির সুপারিশ কার্যকর হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজনের ছাত্রত্ব বাতিল, একজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং দুজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিল। একই অভিযোগের ভিত্তিতে আরও দুই শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে।

এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আতাউল্লাহ এবং সাজ্জাদ হোসেন সজীবকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহা. মাঈন উদ্দীন জানিয়েছেন, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি কঠোর ব্যবস্থা।

এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত মান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি একটি জোরালো বার্তা।