রাজশাহী অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আরও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ফলে চলতি সময়ে এ রোগে মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়ছে। মৃত্যুবরণ করা শিশুদের মধ্যে দুইজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পৃথকীকরণ কক্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং অপর একজন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে সোমবার (৬ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত) মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মোট আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়েই পাঁচজন শিশুর মৃত্যু ঘটে, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে। নতুন তিনজনের মৃত্যু যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস এক হালনাগাদ বুলেটিনে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর, শরীরে র্যাশ এবং অন্যান্য হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ৪১১ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগের ১০টি উপজেলায় মোট ৪০২টি কেন্দ্রে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনের মতো চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকা প্রদান করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের এই দ্রুত বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোগ পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ২০ জন শিশু |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু | ১৩৮ জন |
| শুরু থেকে মোট ভর্তি | ৪১১ জন |
| ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট মৃত্যু | ৪৬ জন |
| গত ৩ দিনে মৃত্যু | ৮ জন |
| সর্বশেষ রিপোর্টকৃত মৃত্যু | ৩ জন |
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করেন এবং কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে পৃথকীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর বর্তমান হামের পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
