রাজবাড়ী পৌর শহরের বিনোদপুর এলাকায় এক যুবককে দিনেদুপুরে জনসম্মুখে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে বখাটে কিশোর ও যুবকদের একটি গ্রুপের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে জাহিদ ফকির (২৫) নামের এক যুবককে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও নির্মমতা
নিহত জাহিদ ফকির রাজবাড়ী পৌর শহরের বিনোদপুর এলাকার মাহাতাব ফকিরের পুত্র। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই জাহিদ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে তিনি বাড়ির পাশেই অবস্থিত একটি স্কুল মাঠের দিকে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি মাঠে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪-৫ জন ওত পেতে থাকা যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহিদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
মাঠে থাকা অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জাহিদের আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য ও প্রেক্ষাপট
হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম ও বয়স | জাহিদ ফকির (২৫ বছর) |
| পিতার নাম | মাহাতাব ফকির |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | বিনোদপুর এলাকার স্কুল মাঠের পাশ, রাজবাড়ী |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | মঙ্গলবার দুপুর (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) |
| হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ | মাত্র ৩,৫০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ |
| আক্রমণকারীর সংখ্যা | ৪-৫ জন (অজ্ঞাতনামা বখাটে গ্রুপ) |
| নিহতের জখম | ধারালো অস্ত্রের কোপ ও একাধিক ছুরিকাঘাত |
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ প্রশাসন এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে দ্রুত কাজ শুরু করেছে। সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাসেল মোল্লা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের একটি সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। স্থানীয় বখাটে ছেলেদের একটি গ্রুপ জাহিদের কাছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা পেত। ওই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে জাহিদের সঙ্গে তাদের বিবাদ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা তর্কে জড়িয়ে পড়লে বখাটে গ্রুপটি পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।
পরিবারের আহাজারি ও জননিরাপত্তা
নিহত জাহিদের বড় ভাই মামুন ফকির বিলাপ করতে করতে বলেন, “মাত্র কয়েক হাজার টাকার জন্য আমার ভাইকে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে মারা হলো! আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
পৌর শহরের মতো জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বোধ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার কারণেই সামান্য টাকা বা তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পৌরবাসী।
