রাজনৈতিক প্রচারণায় ক্রীড়াবিদদের নিষিদ্ধ ঘোষণা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নতুন করে অবস্থান জানাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তারা ঘোষণা দিয়েছে—জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কোনোভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না। গতকাল প্রেরিত সরকারি চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির প্রতিনিধি। তাদের রাজনৈতিক কাজে যুক্ত করা হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা ও বিভাজন তৈরি হতে পারে। এনএসসি’র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কিছু মহল খেলোয়াড়দের জনপ্রিয়তা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে, যা সমগ্র ক্রীড়া-পরিবেশকে কলুষিত করতে পারে।

এনএসসি নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

  • নির্বাচনী প্রচারণায় খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ, ব্যবহার, বা ছবি-ভিডিও প্রদর্শন পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

  • খেলোয়াড়রা কোনো র্যালি, প্রচারণা অনুষ্ঠান বা নির্বাচনী শোডাউনে অংশ নিতে পারবেন না।

  • তাদের সামাজিক মাধ্যম থেকে কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যাবে না।

  • প্রার্থীরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ভোট প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

এনএসসি আরও জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা দেশের সম্পদ—তাদের মূল পরিচয় ক্রীড়ানৈপুণ্যে, রাজনৈতিক আনুগত্যে নয়। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতি ও খেলাধুলার মিশ্রণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিতর্কের জন্ম দেয়, যা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

নির্দেশনাটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব ও বিভাগকে কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনএসসি স্পষ্ট করেছে—এই নীতিমালা লঙ্ঘন করলে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া-সুবাতাস নষ্ট হতে পারে, এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।