জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির অংশ।
শনিবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, জামায়াতের একজন প্রভাবশালী নেতার পক্ষ থেকে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বরং এ ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপকৌশল বলে বিএনপি মনে করে।
মাহদী আমিন স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তি হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ অপপ্রচার। বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শনই হলো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতিটি রাজনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ক্ষমতায়ন।”
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা মানেই ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। সেখানে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার বা কৌশলী বিভ্রান্তির কোনো স্থান নেই। বিএনপি চায় সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে মতবিরোধ থাকবে, কিন্তু অসত্য প্রচার থাকবে না।
দলের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, পানি বণ্টনে ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা ও পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। সীমান্তে ফেলানি হত্যার ঘটনার পর সর্বপ্রথম রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপিই। এসব কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বরাবরই নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন মনোভাবই দলের রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের জন্য বিএনপি ইলেকশন হটলাইন চালু করেছে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইনের মাধ্যমেও জনগণ যোগাযোগ করতে পারছেন।
নিচের সারণিতে বিএনপির ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| উদ্যোগের নাম | উদ্দেশ্য | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| ইলেকশন হটলাইন (১৬৫৪৩) | ভোটার অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণ | স্বচ্ছ নির্বাচন |
| হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইন | সরাসরি নাগরিক যোগাযোগ | জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি |
| ফ্যামিলি কার্ড | নারী ও পরিবার সহায়তা | সামাজিক নিরাপত্তা |
| কৃষক কার্ড | কৃষকের আর্থিক উন্নয়ন | কৃষি খাত শক্তিশালীকরণ |
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়ে সতর্ক করে মাহদী আমিন বলেন, একটি প্রতারক চক্র এসব কার্ড দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। বিএনপি স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এসব কার্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তবে তা অবৈধ এবং প্রতারণা।
তিনি নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অসাধু কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দলকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সবশেষে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করা, যেখানে অপপ্রচার নয়, সত্য ও জনগণের স্বার্থই রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
