ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা ও সংলগ্ন অঞ্চলে সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
ডিএমপি সদর দপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশের ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। নিষিদ্ধ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সভা ও সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রা।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ এলাকা শুধুমাত্র সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন নয়, বরং পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ক্রসিংগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত।
নিচের টেবিলে নিষিদ্ধ এলাকার বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| এলাকা / ক্রসিং | অবস্থান / উল্লেখযোগ্য স্থান | নিষিদ্ধ কার্যক্রম |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ সচিবালয় | সংলগ্ন সকল সরকারি ভবন ও আশপাশ | সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, ধর্মঘট, শোভাযাত্রা |
| প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন (যমুনা) | বাসভবন ও পার্শ্ববর্তী সড়ক | একই সকল কার্যক্রম |
| হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং | কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং থেকে মিন্টো রোড ক্রসিং পর্যন্ত | একই সকল কার্যক্রম |
| অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং | মিন্টো রোড ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকা | একই সকল কার্যক্রম |
ডিএমপি নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে যে, ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা সামাজিক যে কোনো ধরনের সমাবেশ আয়োজনের আগে পূর্বে অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক। নিষিদ্ধ এলাকা পারাপার বা অনুমতি ছাড়াই কোনো কার্যক্রম আয়োজন জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ না করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ডিএমপি জানিয়েছে, শহরের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় নাগরিকরা আইন মেনে চলার মাধ্যমে সহযোগিতা করলে তা সকলের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
এ পদক্ষেপটি শুধুমাত্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, বরং ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যও অপরিহার্য।
