জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

রাজধানীতে ফিল্মি স্টাইলে তাজিয়া মিছিল থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিল চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মিছিলের পাশ থেকে এক যুবককে ধাওয়া করে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর ওই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত যুবকের সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার পর সূত্রাপুরের বি কে দাস রোডে এই ঘটনা ঘটে। তখন আশুরা উপলক্ষে ওই এলাকায় ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কয়েকজন যুবক ওই মিছিলের পাশ থেকে এক তরুণকে তাড়া করতে শুরু করে। প্রাণভয়ে ওই যুবক দৌঁড়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও পিছু নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আক্রান্ত যুবকটি তাজিয়া মিছিলের সঙ্গেই ছিলেন। মিছিল চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন তাকে ধাওয়া করে বি কে দাস রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। ওসি আরও জানান, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

এদিকে তাজিয়া মিছিলের মতো একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় জমায়েতের কাছে এই ধরনের খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পবিত্র আশুরা বা তাজিয়া মিছিলের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা গোষ্ঠীগত সম্পর্ক নেই। পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঠিক কী কারণে এবং কারা এই নৃশংস খুনের সঙ্গে জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ডিএমপি।

Tags :

Md. Sakib

Recent News