রমজানের আগেই সবজি–চিনি–ছোলার দাম ঊর্ধ্বমুখী

রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ছোলা, চিনি, সবজি এবং মুরগির মূল্য গত এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শীত মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

শুক্রবার খিলক্ষেত, কারওয়ান বাজার ও অন্যান্য কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানে ইফতার ও সেহরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ছোলার কেজি দাম বর্তমানে ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

চিনির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দেশজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্যাকেটজাত চিনি ১০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খোলা চিনি যা আগে ১০০–১০৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সর্বনিম্ন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে বিশেষ কিছু পণ্যের দামের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—

পণ্যের নামএককবর্তমান দাম (টাকা)
ছোলাকেজি১০০–১১০
চিনি (খোলা)কেজি১১০
গোল বেগুনকেজি৮০
কাঁচা মরিচকেজি১৬০
টমেটোকেজি৮০
ফুলকপিপ্রতিপিস৪০–৫০
পেঁপেকেজি৪০
শালগমকেজি৬০
মুলাকেজি৪০
শসাকেজি৮০
ব্রয়লার মুরগিকেজি১৭০–১৮৫
সোনালি মুরগিকেজি২৯০–৩০০

ক্রেতাদের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খিলক্ষেতের গৃহিণী জেসমিন আরা বলেন, “কয়েক দিন আগে সবজি তুলনামূলকভাবে সস্তা ছিল। আজ প্রায় সবজির দাম ১০–২০ টাকা বেড়ে গেছে।” অন্য ক্রেতা রাসেদ মনে করেন, “রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা রহিম জানান, “শীত মৌসুমের শেষ দিকে সবজির উৎপাদন কমে গেলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যায়। তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ে।” মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই; ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০–১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে মূল্যচাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।