সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বাস্তবতা সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে একই সময়ে দেশের ৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে এক ডলার রেমিট্যান্সও দেশে আসেনি, যা ব্যাংকিং খাতের কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিসেম্বরজুড়ে রেমিট্যান্সশূন্য ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে ১টি বিশেষায়িত ব্যাংক, ২টি বেসরকারি ব্যাংক এবং ৪টি বিদেশি ব্যাংক। বিশেষায়িত খাতের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বেসরকারি খাতে রয়েছে পদ্মা ব্যাংক পিএলসি এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকের তালিকায় আছে আল ফারাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে কোনো প্রবাসী আয় দেশে আসেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স না আসার পেছনে শাখা নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা, প্রবাসীদের আস্থা সংকট, ডিজিটাল রেমিট্যান্স সেবার দুর্বলতা কিংবা কার্যকর এক্সচেঞ্জ হাউস না থাকার মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সীমিত কার্যক্রম এবং প্রবাসী গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বাধিক ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
নিচের সারণিতে ডিসেম্বর মাসে ব্যাংক খাতভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলে ধরা হলো—
| ব্যাংকের ধরন | রেমিট্যান্সের পরিমাণ (মার্কিন ডলার) |
|---|---|
| রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন | ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার |
| বিশেষায়িত | ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার |
| বেসরকারি | ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার |
| বিদেশি | ৬৮ লাখ ৭০ হাজার |
| মোট | ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার |
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এই অর্জন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে একই সঙ্গে কিছু ব্যাংকের রেমিট্যান্সে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রবাসীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর রেমিট্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে এই বৈষম্য ভবিষ্যতেও থেকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
