রাজধানীর পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—সোহেল, যাকে স্থানীয়ভাবে পাত্তা সোহেল বা মনির হোসেন (৩০) নামে পরিচিত, এবং সুজন, যাকে মুখপোড়া সুজন বলা হয়।
র্যাব-৪-এর সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে সোহেলকে এবং গাজীপুরের টঙ্গী মাজার রোড এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে র্যাব-৪ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দু’জনই পরিচিত ভাড়াটে খুনি। তাদের বিরুদ্ধে যুবদল নেতা কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের এজাহারভুক্ত অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-৪-এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী জানিয়েছেন, আজ বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
হত্যাকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী সেকশন-১২-এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে গোলাম কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে তার মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে সাত রাউন্ড গুলি চালায়। আশপাশের লোকজন একজনকে আটক করেন, যিনি মো. জনি ভূঁইয়া হিসেবে পরিচিত।
দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত কিবরিয়াকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসা কার্যক্রমের পূর্বে তিনি নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের সময় দোকান এলাকায় থাকা সাধারণ লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
নিচের টেবিলে মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | গোলাম কিবরিয়া, পল্লবী থানা যুবদল নেতা |
| ঘটনার সময় ও তারিখ | ১৮ নভেম্বর, সোমবার, সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিট |
| ঘটনা স্থল | বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকান, পল্লবী সেকশন-১২ |
| গ্রেপ্তারকৃতরা | সোহেল (পাত্তা সোহেল/মনির হোসেন, ৩০), সুজন (মুখপোড়া সুজন) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | সাভার (সোহেল), টঙ্গী মাজার রোড, গাজীপুর (সুজন) |
| অপরাধ প্রকার | পরিকল্পিত হত্যা, ভাড়াটে খুনি |
| র্যাব পদক্ষেপ | গ্রেপ্তার, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত |
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। র্যাব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে সংঘটিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। অপরাধ দমন ও তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
র্যাব-৪ এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে। ঘটনার প্রেক্ষাপট, হত্যাকারীদের পরিকল্পনা এবং তাদের রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক সংযোগও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত।
