মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাকের জাতীয় ফুটবল দল। নানা অনিশ্চয়তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা সত্ত্বেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ খেলতে দলটি মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
ইরাক ফুটবল সংস্থার সভাপতি আদনান দিরজাল এক বিবৃতিতে জানান, সপ্তাহের শেষ দিকে একটি বিশেষ বিমানে করে জাতীয় দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বেসামরিক বিমান চলাচল অনেকাংশে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দিরজাল আরও বলেন, দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্লাবে খেলা ইরাকি পেশাদার ফুটবলারদের জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। তাদের নির্ধারিত সময়ে দলে যোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচটি আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনতেরে শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ম্যাচটি ইরাকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ধাপ পার হতে পারলেই তারা বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক ক্রীড়াঙ্গনেও। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরাক দলের অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দলের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড আগে ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, চলমান সংঘাতের কারণে দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন, ফলে প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ইরাক দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি।
এদিকে একই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক ফুটবল শক্তি ইরানের ওপরও। চলমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের দলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকেই স্বাগত জানানো হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পর্বে মোট দুটি দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় স্থানের জন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বলিভিয়া ও সুরিনাম। সেই ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ৩১ মার্চ মাঠে নামবে ইরাক।
নিচের সারণিতে প্লে-অফ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিযোগিতা | বিশ্বকাপ আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ |
| ইরাকের ম্যাচের তারিখ | ৩১ মার্চ |
| ম্যাচের স্থান | মনতেরে, মেক্সিকো |
| সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ | বলিভিয়া অথবা সুরিনাম |
| বিশ্বকাপে সুযোগ | দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে উঠবে |
বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাস্তবতার মাঝেও ইরাকের ফুটবল দল এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে এক কঠিন লড়াইয়ের। খেলাধুলা যে কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং সংকটের মধ্যেও আশা ও ঐক্যের প্রতীক—ইরাকের এই যাত্রা তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
