যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি লুটপাট ও হামলা

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। মৃত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খান-এর পরিবারের বসতঘর স্থানীয় যুবদল নেতাদের হামলায় ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খান স্বাধীনতার পর সরকারি জমিতে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। পরে সরকার তাকে ওই জমিতে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত প্রদান করে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এবং তার সমর্থকরা ওই জমি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে আব্দুল গফফার-এর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিবারের অস্বীকার করার পর রবিবার দুপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

হামলার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় পুরো ঘটনা ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা সামাজিক ও স্থানীয় মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল গফফার বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিন ও সিহাব মিয়া বাবার জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিল। থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাদের বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে যাইনি এবং এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”

পুলিশি পদক্ষেপ

জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, “ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের সরকারি লিজকৃত ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।”

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিস্তারিত
ঘটনা তারিখ ও সময়১৫ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২টা–২টা
ঘটনা স্থানইসলামপুর গ্রাম, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ
ভুক্তভোগী পরিবারমৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খানের পরিবার
হামলাকারীনিজাম উদ্দিন (যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক), সিহাব মিয়া, মজনু মিয়া ও তাদের লোকজন
হামলার ধরনবসতঘর ভাঙচুর, আসবাবপত্র লুটপাট
দাবিকৃত চাঁদার পরিমাণ৫ লাখ টাকা
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণপ্রায় ২০ লাখ টাকা
পুলিশি পদক্ষেপঘটনা তদন্ত, এসআই হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত

সমাপনী মন্তব্য

এই হামলা স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের সতর্কতা অপরিহার্য।