ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন প্রস্তাব পেশ করেছেন, তা নিয়ে তীব্র চাপে পড়েছে গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাস। প্রস্তাবের শর্তসমূহের ওপর মতামত জানাতে যে স্বল্প সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত কঠোর সতর্কতা—এই দুই কারণেই চাপে আছে গোষ্ঠীটি।
ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামাসকে প্রস্তাবের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি হামাস প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে তাদের “খুবই দুঃখজনক পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ
| মূল বিষয় | বিস্তারিত শর্ত |
| মোট ধারা | ২০ দফা প্রস্তাব |
| নেতৃত্ব কাঠামো | গাজার সরকারপ্রধান হিসেবে ট্রাম্প নিজ নাম প্রস্তাব করেন, সহযোগী হিসেবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে প্রস্তাব করা হয় |
| নিরাপত্তা শর্ত | হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান |
| মানবিক ধারা | গাজায় বন্দি সব ইসরায়েলি জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি |
| প্রস্তাব প্রেরণ | মধ্যস্থতাকারী মিসর ও কাতারের মাধ্যমে হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে |
হামাস বরাবরই অস্ত্র সমর্পণের শর্তকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, অস্ত্র সমর্পণ মানে প্রতিরোধের শক্তি ত্যাগ করা। এবারও তারা একই কারণে আপত্তি তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাছাড়া ট্রাম্প যে প্রস্তাব তৈরি করেছেন, তার ভিত্তি যে আলোচনা বা বৈঠকগুলিতে হয়েছে, সেখানে হামাসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। ফলে শর্তগুলো তাদের কাছে পূর্বানুমানহীন অবস্থায় এসেছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিসর ও কাতারের মাধ্যমে হামাসকে প্রস্তাবের কপি সরবরাহ করা হলেও ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী তা বিশ্লেষণ, মতামত প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত।
২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন: “ইসরায়েল এবং আরব নেতারা আমার নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছেন। এখন আমরা হামাসের সাড়ার অপেক্ষা করছি। মতামত জানানোর জন্য তাদেরকে তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে।”
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে, এই প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনার সুযোগ আছে কি না, ট্রাম্প জবাব দেন: “বেশি সুযোগ নেই।”
হামাস বর্তমানে একদিকে কূটনৈতিক চাপে, অন্যদিকে সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তাবের শর্ত মেনে নেওয়া বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে গাজার ভবিষ্যৎ শান্তি উদ্যোগের গতিপথ।
সূত্র: রয়টার্স
