নববর্ষের আগের রাত থেকে নিখোঁজ থাকা ২৭ বছর বয়সি ভারতীয় নারী নিকিথা গোধিশালাকে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে তার সাবেক প্রেমিকের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ছুরিকাঘাতে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিকিথা হাওয়ার্ড কাউন্টির এলিকট সিটিতে বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন ডাটা ও স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্ট ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিকিথার লাশ পাওয়া যায় ২৬ বছর বয়সি অর্জুন শর্মার মালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। শর্মার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, শর্মা ২ জানুয়ারি পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তিনি তখন জানান, ৩১ ডিসেম্বর সর্বশেষ তিনি নিকিথাকে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে দেখেছিলেন। এরপর ৩ জানুয়ারি পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে নিকিথার লাশ উদ্ধার করে। লাশে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার পর। নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের দিনই অর্জুন শর্মা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতের উদ্দেশে ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেন। যদিও হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে, তারা নিকিথার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও, এমন গুরুতর অপরাধে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আদালতের পর্যালোচনা ও কূটনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন, যা সাধারণত কয়েক মাস সময় নিলে সম্পন্ন হয়।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | নিকিথা গোধিশালা |
| বয়স | ২৭ বছর |
| পেশা | ডাটা ও স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্ট |
| বসবাস | এলিকট সিটি, হাওয়ার্ড কাউন্টি, মেরিল্যান্ড |
| সন্দেহভাজন | অর্জুন শর্মা, ২৬ বছর |
| অভিযোগ | প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা |
| হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ৩১ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৭টার পর |
| লাশ উদ্ধার | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ |
| পুলিশি অভিযান | হাওয়ার্ড কাউন্টি পুলিশ এবং ফেডারেল এজেন্সি |
| কূটনৈতিক সমন্বয় | ভারতীয় দূতাবাস, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে |
এ ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটিতে শোক এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
