যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত প্রদান বাধ্যতামূলক করার তালিকা সম্প্রতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ভিসা বন্ডের আওতাধীন দেশের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে তথ্য জানানো হয় যে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিককে এবার নতুনভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (ডলার প্রতি ১২২.৩১ টাকা হারে) ধার্য করা হয়েছে।
ভিসা বন্ড কী?
ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক ভিসা পাওয়ার আগে প্রদান করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, ভিসাধারী তার ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা, যথাযথভাবে মেনে চলবে কিনা তা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পান। এই ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদ অতিক্রম করলে তাকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
নতুন ভিসা বন্ড তালিকার দেশসমূহ (নমুনা)
| দেশ | সর্বোচ্চ বন্ড (USD) | বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়) |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | 15,000 | 18,35,000 |
| [অন্য দেশ ১] | 15,000 | 18,35,000 |
| [অন্য দেশ ২] | 15,000 | 18,35,000 |
| [অন্য দেশ ৩] | 15,000 | 18,35,000 |
বেশির ভাগ দেশই সাধারণত ভিসা নেওয়ার সময় পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চায়। তবে ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা খুব কম দেশ চালু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, নিউজিল্যান্ড একসময় ভিসা বন্ড চালু করেছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” দেশের জন্য ভিসা বন্ড চালু করেছিল, যা পরে বাতিল করা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের এই সম্প্রসারিত তালিকা সম্ভাব্য ভিসা ওভারস্টে রোধ এবং দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক আশঙ্কা কমাতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এতে বাংলাদেশসহ নতুন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
