প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় পশু জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলকভাবে উপযুক্ততার সনদ গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। এই সনদ ছাড়া কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ এবং খোজা মহিষ—এসব প্রাণীকে জবাইয়ের আগে অবশ্যই উপযুক্ত বলে ঘোষণা করতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের ১৬ আগস্টের নির্দেশনার আলোকে গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিকতা, স্বাস্থ্য এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পশুকে জবাইযোগ্য বলে সনদ দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি ভেটেরিনারি সার্জন যৌথভাবে। তবে তাদের লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি, অথবা বয়সজনিত কারণে, আঘাত, শারীরিক বিকৃতি কিংবা দুরারোগ্য রোগের কারণে সেটি স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছে।

যদি কেউ এই সনদ না পান, তবে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন বলেও নির্দেশনায় জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পশু জবাইয়ের স্থান নিয়েও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেবলমাত্র নির্ধারিত কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদিত স্থানে পশু জবাই করা যাবে। কোনো উন্মুক্ত জনসমাগমস্থল বা প্রকাশ্য স্থানে জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—

বিষয়নতুন নির্দেশনার বিধান
প্রকাশ্যে জবাইসম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
অনুমোদিত স্থানকেবল নির্ধারিত কসাইখানা ও প্রশাসন অনুমোদিত স্থান
বাধ্যতামূলক সনদপশু জবাইয়ের আগে উপযুক্ততার সনদ
সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষপৌরসভার চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ভেটেরিনারি সার্জন
সনদের শর্তবয়স ১৪ বছরের বেশি অথবা রোগ/আঘাতে অক্ষম
আপিলের সুযোগসনদ না পেলে ১৫ দিনের মধ্যে
শাস্তিসর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড
আইনি ভিত্তি১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে তা আইনের আওতায় আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ পুলিশ ও প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এই নির্দেশনা জারির মাধ্যমে রাজ্য সরকার পশু কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ পূর্ববর্তী সময়েও এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।