ডালাসের সেই দুঃস্বপ্ন আর কলম্বোর মাঠে ফিরে আসেনি। দুই বছর আগে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজয়ের যে তিক্ত স্মৃতি পাকিস্তানকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল, আজ কলম্বোর সবুজ গালিচায় তার সার্থক প্রতিশোধ নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে সুপার এইটের পথে বেশ শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেল বাবর আজম ও সালমান আগার দল।
মাঠের লড়াই ও প্রতিশোধের আবহ
ম্যাচের আগে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ক্রিকেটার মোহাম্মদ মহসিন হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানই চাপে থাকবে। ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেছিলেন। তবে মাঠের লড়াইয়ে আজ দেখা গেল ভিন্ন এক পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল তারা। প্রথমে ব্যাটিং করে পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র লড়াই করলেও ৮ উইকেটে ১৫৮ রানে তাদের ইনিংস থমকে যায়।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান ও সংক্ষিপ্ত স্কোর নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রথম ইনিংস (পাকিস্তান) | ১৯০/৯ (২০ ওভার) |
| দ্বিতীয় ইনিংস (যুক্তরাষ্ট্র) | ১৫৮/৮ (২০ ওভার) |
| ফলাফল | পাকিস্তান ৩২ রানে জয়ী |
| ম্যাচসেরা | সাহিবজাদা ফারহান (৪১ বলে ৭৩ রান) |
| সর্বোচ্চ উইকেট (পাকিস্তান) | উসমান তারিক (৩/২৭) |
| সর্বোচ্চ উইকেট (যুক্তরাষ্ট্র) | শ্যাডলি ফন শালভিক (৪/২৫) |
পাকিস্তানের ব্যাটিং তান্ডব ও ফারহানের বীরত্ব
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। ওপেনিং জুটিতে সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান মাত্র ৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান যোগ করেন। তবে ষষ্ঠ ওভারে দৃশ্যপটে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ মিডিয়াম পেসার শ্যাডলি ফন শালভিক। তিনি এক ওভারে সাইম আইয়ুব (১৯) এবং অধিনায়ক সালমান আগাকে (১) সাজঘরে ফিরিয়ে পাকিস্তানের রানের গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন।
এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন সাহিবজাদা ফারহান ও অভিজ্ঞ বাবর আজম। বাবর আজম এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩২ বলে ৪৬ রান করলেও, অন্য প্রান্তে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন ফারহান। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৭৩ রানের এক দর্শনীয় ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে শাদাব খানের ১২ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তান ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়। যদিও শেষ ওভারে শালভিক ৪ উইকেট পূর্ণ করে পাকিস্তানকে ২০০ ছোঁয়ার আগেই আটকে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং
১৯১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা মন্দ ছিল না। ৪.৪ ওভারে ৪২ রান তুলে ফেলেছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু স্পিনার মোহাম্মদ নেওয়াজ আন্দ্রিস গৌওসকে আউট করার পর থেকেই মার্কিন ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামতে শুরু করে। একদিকে শুভম রঞ্জানে ৩০ বলে ৫১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন এবং শায়ান জাহাঙ্গীর করেন ৪৯ রান, কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে তাদের কেউই যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি।
নিচে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং বিপর্যয়ের একটি চিত্র দেওয়া হলো:
শুভম রঞ্জানে: ৫১ (৩০ বল, ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা)
শায়ান জাহাঙ্গীর: ৪৯ (৩৬ বল)
বাকি ব্যাটসম্যান: মাত্র ৪ জন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন।
পাকিস্তানের পক্ষে মায়াবী স্পিনে ৩ উইকেট শিকার করেন উসমান তারিক। শাদাব খানও বল হাতে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ৩২ রানের এই জয় কেবল পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানই নয়, বরং পাকিস্তানের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারেও বড় ভূমিকা রাখবে।
