যুক্তরাজ্য শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় থাকছে। যদিও ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) তাঁর নাগরিকত্ব রদবাতিলের বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে দেশটির আদালতগুলো ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে এবং তা বহাল রাখা হবে। সরকারের সূত্র মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সবসময় দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবেন।
শামীমা বেগম মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে সিরিয়ার আইএসআইএল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাড়ি দেন। সেখানে তিনি একজন আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে করেন এবং তিন সন্তান জন্ম দেন, যারা বর্তমানে বেঁচে নেই।
জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে। শামীমার আইনজীবীরা দাবি করেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যে তিনি হয়রানি ও পাচারের শিকার হয়েছেন কিনা, তা পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ইসিএইচআরও জানতে চেয়েছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সময়ে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা তাঁর পাচারের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন কি না।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। দেশীয় আদালতগুলো ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যাচাই করেছে।”
২০২০ সালের একটি ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলা হয়, শামীমা বেগম বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট শামীমাকে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে অস্বীকার করে।
শামীমার আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, “১৫ বছর বয়সী একজনকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল এবং বাড়ি থেকে আইএসআইএল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি করে।” তিনি আরও বলেন, “শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দীর্ঘ তালিকাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই পথে নিখোঁজ হওয়ার পরেই শামীমা উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন।”
নিচের টেবিলে শামীমার জীবন ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম ও জাতীয়তা | যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত |
| বয়স | ২৬ বছর |
| আইএসআইএল-এ যাত্রা | ২০১৫ সালে, বয়স ১৫ বছর |
| বিবাহ | একজন আইএস যোদ্ধার সঙ্গে সিরিয়ায় |
| সন্তান | ৩ জন, বর্তমানে মৃত |
| নাগরিকত্ব বাতিলের কারণ | জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি |
| আদালতের রায় | ট্রাইব্যুনাল: ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হলেও রাষ্ট্রহীন নয় |
| সুপ্রিম কোর্ট | চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ অস্বীকার |
| আইনজীবীর বক্তব্য | শিশু বয়স্ক নয়, পাচার ও শোষণের শিকার |
শামীমা বেগমের মামলাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যকার জটিল দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি, যা যুক্তরাজ্যের আইনি প্রক্রিয়া ও নীতি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
