খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ এএম

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না, তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো প্রয়োজন নেই।
এই মন্তব্য তিনি সম্প্রতি কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর, কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদরাসা-এর উন্নয়নকল্পে আয়োজিত মসজিদের ইসলামী জালসায় বক্তব্যকালে করেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।
ভাইরাল ভিডিওতে মিজানুর রহমান বলেন,
“যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নাই। যারা হাত তুলেননি, তাদের আমি অনুরোধ করব আজকে কোরআনের মাহফিল শোনার সময় কোরআনের পথে ফিরে আসুন। কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকা উচিত।”
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজনদের মধ্যে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। হাজার হাজার মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রকাশিত হয়েছে।
তবে মিজানুর রহমান পরবর্তীতে clarify করেন,
“আমি মাস দুয়েক আগে ওই জালসায় বক্তব্য দিয়েছি। ভিডিওতে যেভাবে দেখানো হয়েছে, আমি সেভাবে বলিনি। আমি মূলত সবাইকে কোরআনের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছি।”
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন,
“জামায়াত ধর্মকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে থাকে। যেহেতু দলটির নামের সঙ্গে ইসলাম আছে, তাই তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে ভোট প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করে। ইসলামী জালসায় কোরআন-হাদিসের আলোচনা শোনা উচিত, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।”
প্রসঙ্গক্রমে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যও বিতর্কের মুখে পড়ে।
| প্রার্থী ও আসন | বিতর্কিত মন্তব্য | প্রকাশের তারিখ | ফলাফল/প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-১ | “সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও দাঁড়িপাল্লা গ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহ কবুল করতে পারেন” | ৮ জানুয়ারি | নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শো-কজ নোটিশ প্রাপ্ত |
| এটিএম আজম খান, রংপুর-৪ | “হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর চেয়েও জামায়াত নেতার কোরবানি বড়” | ৮ জানুয়ারি | ভিডিও ভাইরাল; নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া; ক্ষমা প্রার্থনা |
এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রচারণার সীমারেখা ধীরে ধীরে বিতর্কিত হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধর্মকে ভোট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
মন্তব্য