যশোরের কেশবপুরে যৌথবাহিনীর হাতে আটক পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউর রহমান উজ্জ্বল (৩৭) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক হাসিবুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে কারারক্ষীরা উজ্জ্বলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যৌথবাহিনী উজ্জ্বলসহ চারজনকে আটক করে। পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ তিনটি মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নিহতের বড় ভাই, বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন বাবু জানান, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তার ভাইকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তার দাবি, উজ্জ্বলের কাছে কোনো অস্ত্র বা মাদক পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরে তারা জানতে পারেন, ২০টি ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে বলা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, উজ্জ্বলকে ধরে নেওয়ার পর থেকেই তাকে মারধর করা হয় এবং ফজরের আজান পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। তাকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনার বিচার চান।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে চারজনকে কারাগারে রিসিভ করা হয়। উজ্জ্বলের মেডিকেল সার্টিফিকেটে উল্লেখ ছিল যে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। রিসিভের সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিলেও তিনি ‘ইন্টারনাল হ্যামারেজে’ ভুগছিলেন। তাকে কারা হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং আধ ঘণ্টা পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, বাইরে তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল বলে তারা জানতে পারেন। তিনি ‘পাবলিক অ্যাসাল্ট’ ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে কেশবপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনী অস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ চারজনকে আটক করে। শুক্রবার সকালে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। আটকরা কান্নাকাটি করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তাদের পুলিশি জিম্মায় নেওয়া হয়। কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তাররা কাউকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলেননি এবং শরীরে কোনো কাটা-ছেঁড়া দেখা যায়নি। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জিলাইভ২৪/এসএস
