যমুনা সেতুতে যানবাহন ও টোল বৃদ্ধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে যমুনা সেতুর যান চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতুর টোল প্লাজার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সেতু পারাপার করেছে ৩৬,৯২৩টি যানবাহন, যা সাধারণ দিনের গড় সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। একই সময়ে টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৬০ টাকা

টোল প্লাজার কর্মকর্তা জানান, সাধারণ সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে, বিশেষ ছুটির দিন বা ঈদে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের জুনে পবিত্র ঈদুল আজহার পাঁচদিনে সেতু পারাপার হয়েছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৭টি যানবাহন, এবং সেই সময়ে মোট টোল আদায় হয়েছিল ১৬ কোটি ৭৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা। ঈদের আগের দিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৮,১৮৪টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টাকা।

সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের যানবাহন চলাচল এবং টোল আদায়ের বিস্তারিত নিম্নরূপ:

সেতুর প্রান্তযানবাহন সংখ্যাটোল আদায় (টাকা)
পূর্ব (উত্তরবঙ্গগামী)২৩,৯৮৯১,৭১,৭৩,৯০০
পশ্চিম (দক্ষিণবঙ্গগামী)২২,০৩৪১,১৫,৩৩,৭৫০
মোট৩৬,৯২৩২,৯৪,৭১,৬৬০

সেতুর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রাক্কালে লঞ্চ, ট্রাক এবং ছোট-মাঝারি যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় সেতুর উপর চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

যমুনা সেতু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতু হিসেবে পরিচিত, যা রাজধানী ঢাকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে সংযুক্ত করে। সেতুর মাধ্যমে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ ও মালামাল পরিবহন করা হয়। বিশেষ সময়ে যেমন ঈদ, জাতীয় ছুটি বা নির্বাচনের প্রাক্কালে, সেতুর টোল আদায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়।

সেতুর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং টোল আদায়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য টোল প্লাজার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্বাচনী প্রাক্কালে এই যান চলাচল সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও যাতায়াত সুবিধা প্রদান করবে।