ফুটবল বিশ্বে ‘পারফেক্ট টেন’ শব্দটি সাধারণত দশ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। তবে গতকাল ১০ জানুয়ারি, এফএ কাপ তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ‘পারফেক্ট টেন’ হয়ে দেখা দিল অন্য রকম এক ঘটনা—দশটি গোল করেই ইতিহাস গড়ল দলটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এক্সেটার সিটি মুখোমুখি হয়েছিল আক্রমণাত্মক ম্যানচেস্টার সিটির। খেলার ফলাফলও হয়ে গেল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিল রেখে ১০–১। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, একের পর এক গোলের ধাক্কায় আঘাতপ্রাপ্ত এক্সেটারও অবদান রেখেছে এক গোল দিয়ে। এই মিল—তারিখ ১০/১ এবং স্কোরলাইন ১০–১—দর্শকদের কাছে মনে রাখার মতো আনন্দদায়ক ঘটনা হয়ে উঠেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোল করেছেন সাতজন খেলোয়াড়। আগ্রাসী ‘গোলমেশিন’ আর্লিং হলান্ড ছাড়াও অন্যরা নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। প্রধান গোলদাতাদের তালিকা নিম্নরূপ:
| খেলোয়াড় | গোলের সময় (মিনিট) |
|---|---|
| রিকো লুইস | 49, 91 |
| ম্যাক্স অ্যালাইনা | 1টি গোল |
| রদ্রি | 1টি গোল |
| অ্যান্টনি সেমেনিও | 1টি গোল |
| তিয়ানি রেইনডার্স | 1টি গোল |
| নিকো ও’রিলি | 1টি গোল |
| রায়ান ম্যাকাইদু | 1টি গোল |
| এক্সেটারের আত্মঘাতী | 2টি গোল |
রদ্রি ২০২৪ সালের মে মাসের পর এই প্রথম গোলের খাতায় নাম লিখালেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অ্যান্টনি সেমেনিওর কীর্তি—সেখানে তিনি একদিন আগে বোর্নমাউথ থেকে সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোল ও একটি অ্যাসিস্ট রেকর্ড করলেন। এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে সের্হিও আগুয়েরোর ২০১১ সালের অভিষেক ম্যাচের কীর্তির কথা, যখন তিনি সোয়ানসির বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন। ১৪ বছর পর সিটি একজন নতুন খেলোয়াড় দিয়ে একই রেকর্ড গড়ল।
দল হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির এই জয়ের কীর্তি আরও বড় দিক থেকে গুরুত্ব রাখে। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ইংলিশ শীর্ষ লিগের দল এধরনের এক প্রতিযোগিতায় ১০ গোল করতে পারেনি। ৩৯ বছর আগের রেকর্ডটি ছিল লিভারপুলের, যারা লিগ কাপের ম্যাচে ফুলহামের বিপক্ষে ১০–০ জয় পেয়েছিল। যদিও ইতিহাসে আরও বড় জয়ের উদাহরণ আছে—১৯৬০ সালে টটেনহাম ক্রু-কে ১৩–২ গোলে হারিয়েছিল।
তবে এই জয়ের বিশেষত্ব তারিখের সঙ্গে স্কোরলাইনের নিখুঁত মিলেই। তাই ম্যানচেস্টার সিটি ২০২৫–২৬ মৌসুমের এফএ কাপ তৃতীয় রাউন্ডে কখন জিতেছিল, তা মনে রাখতে আর ক্যালেন্ডার খোলার প্রয়োজন নেই। স্কোরলাইন দেখলেই মনে থাকবে—১০ জানুয়ারি, ১০–১।
