মোবাইল দোকান অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করে আন্দোলনের ডাক

বিটিআরসির নতুন আমদানি নীতিমালা এবং এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের মোবাইল ফোন বাজার। রাজধানীসহ দেশের সব প্রান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্মার্টফোন ও গেজেট ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল কেনাবেচা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এমবিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মূলত বড় বড় দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোকে একচেটিয়া বাজার দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর বিটিআরসি যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করার শামিল।” তাঁর মতে, ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই কর হার কমানো এবং আমদানি নীতিমালা সহজ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। কিন্তু বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে সেই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চলমান কর্মসূচি

দাবি ও কর্মসূচির ধরনবিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা
দোকান ধর্মঘটসারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা।
আইনি দাবিগ্রেপ্তারকৃত সকল ব্যবসায়ীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার।
নীতিগত দাবিএনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো সংস্কার বা বাতিল।
আমদানি বাণিজ্যকুরিয়ার ও ব্যাগেজ রুলসে মোবাইল আনার বাধা অপসারণ।
পরবর্তী পদক্ষেপআগামীকাল ঢাকায় অবস্থান ও বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু শাটডাউন পালন করলেই তারা থেমে থাকবে না। আগামীকাল রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের জমায়েত ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশি হয়রানি ও গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে কৌশলগত কারণে অবস্থান কর্মসূচির সঠিক স্থানটি আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। শামীম মোল্লা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের সকল দাবি মানা না হবে এবং গ্রেপ্তার হওয়া সহকর্মীদের মুক্তি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের কোনো মোবাইল মার্কেট খোলা হবে না।

বিটিআরসির সাম্প্রতিক এই কড়াকড়ির ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত মোবাইলের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজারে ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। সাধারণ ক্রেতারাও এই অচলাবস্থায় বিপাকে পড়েছেন, কারণ অনেক পুরাতন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন না থাকার কারণে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার বা বিটিআরসির পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া না হলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।