২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মান জাতীয় দলের হয়ে জয়ী হওয়া মেসুত ওজিল এবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এসে মানবিক দায়িত্ব পালনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশে আগমনের পর, তিনি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুর্কি সরকারের সমর্থিত ‘টীকা’ নামের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
‘টীকা’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, স্থানীয় কমিউনিটি এবং শরণার্থী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওজিল বলেন, “সামাজিক দায়িত্ব এবং মানুষের কল্যাণে অবদান রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমি আনন্দিত যে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছি এবং আশা করি এটি স্থানীয় মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওজিল প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং শরণার্থী সহায়তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। উদ্বোধনের পর তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেন।
ওজিলের বাংলাদেশ সফরের সংক্ষিপ্ত সময়সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | কার্যক্রম | স্থান |
|---|---|---|
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | বাংলাদেশে আগমন | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | ‘টীকা’ প্রকল্প উদ্বোধন, ক্যাম্পাস পরিদর্শন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | রোহিঙ্গা শিবিরে ইফতার অনুষ্ঠান | কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | দেশে প্রত্যাবর্তন | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |
প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘টীকা’ কেবল চিকিৎসা সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার উন্নয়নে এবং কমিউনিটি সাপোর্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকীকরণ, শিক্ষামূলক কর্মশালা এবং শিশু ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের মূল অংশ।
রোহিঙ্গা শিবির সফরের অংশ হিসেবে ওজিল আগামীকাল (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিবিরের শিশু ও নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং একই দিন একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সফরের শেষে তিনি দেশে ফিরে যাবেন।
বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার ঢাকায় আগমন কেবল ক্রীড়া ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি প্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওজিলের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমে নতুন প্রেরণা যোগ করবে এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
সার্বিকভাবে, মেসুত ওজিলের এই সফর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং শরণার্থী কল্যাণ কার্যক্রমের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সংযোগ স্থাপন করছে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রীড়াবিদ ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
