মেসির ছায়া, ইয়ামালের প্রতিক্রিয়া

ফুটবলে ‘তুলনা’ এক নির্মম বাস্তবতা। কেউ অসাধারণ খেললেই তাকে কারও সঙ্গে তুলনা করা হয়। মেসির পরবর্তী উত্তরসূরি খুঁজতে খুঁজতে বার্সা সমর্থকরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে কোনো বাম–পায়ের উইঙ্গার দেখলেই তাঁরা ‘নতুন মেসি’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।

লামিনে ইয়ামাল সেই একই ফাঁদে পড়তে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি থামলেন, কথা বললেন, এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন—“মেসি জানেন যে আমি তাঁর মতো হতে চাই না।”

এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং ফুটবল রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক সাহসী অবস্থান। কারণ তুলনা শুধু ভালোবাসা নয়; তুলনা চাপ তৈরি করে, প্রত্যাশা বাড়ায়, ক্যারিয়ারকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইয়ামালের কথার অন্তর্নিহিত বার্তা হলো—“মেসিকে সম্মান করি বলেই তাঁর মতো হতে চাই না।”
এ কথার গভীরতা রয়েছে। মেসি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যে তাকে অনুকরণ করা মানেই ব্যর্থতা। নিজেকে নিজস্বভাবে গড়ে তোলাই একজন তরুণের সঠিক পথ।

ইয়ামালের খেলায় মেসির ছায়া থাকতেই পারে। দুজনই বাঁ–পায়ের, দুজনই ড্রিবলার, দুজনই বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নিতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই মিলই তাঁদের তুলনার ফাঁদে ফেলে দিচ্ছে।

ইয়ামাল চেষ্টা করছেন তুলনা থেকে মুক্তি পেতে।

তাঁর ভাষায়—“ফুটবল আমাকে আনন্দ দেয়। রেকর্ড, গোল—এসব আমার লক্ষ্য নয়। আমি খেলি মানুষের আনন্দের জন্য।”

এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিত্বের পরিপক্বতার প্রমাণ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ৭ গোল করা, বার্সার নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া—এসবই বোঝায় তিনি প্রতিভাবান, কিন্তু তিনি নিজেকে সঠিকভাবে আঁচ করতে পারেন।

এদিকে মেসি এখন ক্যারিয়ারের শেষ দিকটায়। ৩৮ বছর বয়সে ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন, বিশ্বকাপ ও কোপা জেতার পর তাঁর জীবন এখন অনেকটাই শান্ত। এমন সময়ে ইয়ামালের মতো তরুণের সঙ্গে তাঁর তুলনা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং অপরিণত বিশ্লেষণের উদাহরণ।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় তিনি পরিষ্কার বলেন—“ফুটবলই আমার প্রথম প্রেম। এটি কখনো বদলাবে না।”
এখানে তাঁর মানসিকতা ফুটে ওঠে—জীবনের কেন্দ্র ফুটবলই, বাকিগুলোও গৌণ।

দামী গাড়ির প্রসঙ্গেও তিনি বলেন—“বন্ধুরা যাতে উপভোগ করতে পারে এমন গাড়ি চাই। কিন্তু ল্যাম্বোরগিনি নয়।”

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়—ইয়ামাল শুধু প্রতিভাবান নন; মানসিকভাবে তিনি একটি সুগঠিত ব্যক্তিত্ব। তুলনা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারে না। বরং তিনি নিজের পথ নিজের মতো করে তৈরি করতে চান।

মেসির উত্তরসূরি নয়—ইয়ামাল হতে চায় ইয়ামাল।
আর এটাই তাঁকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারে।