মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী মাদক সম্রাট ও অপরাধী সংগঠন ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়ারা সার্ভান্তেস, যাকে সাধারণভাবে ‘এল মেনচো’ হিসেবে চেনা হয়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিহত হয়েছেন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিস্কোর তাপালপা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সংঘর্ষে ৫৯ বছর বয়সি এই মাদক সম্রাট গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার ওপর ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকোর অন্তত ছয়টি রাজ্যে সহিংসতা বেড়ে গেছে। কার্টেল সদস্যরা প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে গাড়ি জ্বালিয়ে এবং বন্দুকধারীদের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই রাজ্যগুলো হলো:
| রাজ্য | সহিংসতার ধরন | উল্লেখযোগ্য প্রভাব |
|---|---|---|
| জালিস্কো | সড়ক অবরোধ, গাড়ি জ্বালানো | গুয়াদালাজারা শহর ভুতুড়ে হয়ে ওঠা |
| কলিমা | বন্দুকধারী অভিযান | নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি |
| মিচোয়াকান | সড়ক অবরোধ | জনপরিবহণ বন্ধ |
| নায়ারিত | আতঙ্কজনক হামলা | স্থানীয় স্কুল সাময়িক বন্ধ |
| গুয়ানাহুয়াতো | অস্ত্রধারী দখল | স্থানীয় বাজারে ভীতি সৃষ্টি |
| তামাউলিপাস | গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্র অবরোধ | নাগরিক চলাচল ব্যাহত |
গুয়াদালাজারার বিমানবন্দর ও পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আতঙ্কিত মানুষের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমাস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং জনপরিবহণ ও স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা সচিবালয় জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। অভিযানে চার জন কার্টেল সদস্য নিহত ও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র, রকেট লঞ্চার ও সাজোয়া যান জব্দ করা হয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্র সচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ এই ঘটনা মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে এবং বিমান সংস্থাগুলো কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদক বাণিজ্যে এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে। সাবেক ডিইএ কর্মকর্তা মাইক ভিজিল সতর্ক করেছেন, কার্টেল প্রধানকে হত্যা করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না; বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতা ক্ষমতার লোভে লিপ্ত হয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এর ফলে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যাবে।
মোটের উপর, এল মেনচোর মৃত্যুর প্রভাব শুধু মাদক বাণিজ্যের সাময়িক শূন্যতা নয়, বরং দেশের ছয়টি রাজ্যে উদ্বেগজনক সহিংসতার বীজ বোনা হয়েছে। মেক্সিকো সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।
