মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যে কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও অসিগুয়েরা সাভাতেস, যাকে ‘এল মেনচো’ হিসেবে পরিচিত, নিহত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ডের অন্তত ২৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার জালিস্কোর তাপালপা শহরে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সাভাতেসকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে। গুরুতর আহত সাভাতেস পরে মারা যান বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
সাভাতেসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর ৩২টি রাজ্যের মধ্যে অন্তত ২০টি রাজ্যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শহরে শহরে লুটপাট, আগুন লাগানো এবং পুলিশের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিকার্ডো ট্রেভিলা জানিয়েছেন, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ২,৫০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে রবিবার থেকে মোট ৯,৫০০ সেনা মোতায়েন হয়েছে নিরাপত্তা বজায় রাখতে। তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হতে এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে প্রাথমিকভাবে সংঘটিত সহিংসতা এবং নিহতদের তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| রাজ্য / এলাকা | নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যু | অন্যান্য সহিংসতা | মোতায়েনকৃত সেনা সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| জালিস্কো | 10 | গ্রেপ্তারকৃত এল মেনচোর সমর্থকবিরোধী সংঘর্ষ | 2,500 |
| গুজারাত | 3 | সশস্ত্র লুটপাট, গাড়ি পোড়ানো | 1,000 |
| মিচোয়াকান | 4 | নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা | 1,200 |
| সোনোরা | 2 | শহরে বিশৃঙ্খলা, দোকান লুট | 800 |
| অন্যান্য রাজ্য | 6 | ছোট ছোট সংঘর্ষ ও দাঙ্গা | 4,000 |
| মোট | 25 | বিভিন্ন সহিংস ঘটনা | 9,500 |
বিশ্লেষকদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যুর পর মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণের শূন্যতার সুযোগে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ফলে সাময়িক শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মেক্সিকোর সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন সহিংসতা রোধ ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শহরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট স্থাপন করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে।
এ ঘটনার প্রভাব মেক্সিকোতে নিরাপত্তা এবং মাদক বিরোধী নীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
