বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য গুরুত্ব এবং এর ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি স্পষ্টভাবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধকে অন্য যেকোনো অর্জনের সাথে একই সমান্তরালে বা এক করে দেখা সমীচীন হবে না।
Table of Contents
মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠত্ব ও মন্ত্রীর বক্তব্য
আজ রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর নবনিযুক্ত সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, পতাকা এবং সার্বভৌম জাতিসত্তা হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূলে রয়েছে ১৯৭১ সালের সেই সশস্ত্র জনযুদ্ধ।
তিনি গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অপব্যবহারের ফলে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্ম প্রকৃত সত্য জানা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন:
“আমাদের পূর্বসূরি মুক্তিযোদ্ধারা যে অসীম ত্যাগ, রক্ত আর তিতিক্ষার বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের একমাত্র এবং অবিচল ভিত্তি।”
জামুকার সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ
মতবিনিময় সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল করা এবং ভুয়া গেজেট বাতিলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রী জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হবে না। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| আলোচনার বিষয় | গৃহীত সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্য |
| ইতিহাস সংরক্ষণ | জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং বীরত্বগাথা নথিবদ্ধ করা। |
| তালিকা যাচাই-বাছাই | রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তর্ভুক্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। |
| তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা | শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে বিশেষ সেমিনার ও কর্মসূচির উদ্যোগ। |
| চেতনার অপব্যবহার রোধ | মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ফায়দা হাসিল বন্ধে কঠোর তদারকি। |
ইতিহাসের বিকৃতি রোধে নতুন পদক্ষেপ
মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, যারা কোনোদিন রণাঙ্গনে লড়াই করেনি, রাজনৈতিক আশীর্বাদে তাদের অনেকের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা প্রকৃত বীরদের জন্য চরম অবমাননাকর। তাই জামুকাকে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি মনে করেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা কিংবা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন—প্রতিটিরই গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ’ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের চূড়ান্ত জন্মলগ্ন হিসেবে সর্বদাই স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী।
উপসংহার
পরিশেষে, মন্ত্রী দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা ইতিহাসের সঠিক তথ্য সংরক্ষণে সরকারকে সহযোগিতা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক ইতিহাসের চর্চাই পারে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠন করতে। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা পৌছে দিতে মন্ত্রণালয় শীঘ্রই কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
