মুক্তিপণ কাণ্ডে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর একটি শিশুর মরদেহ ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্ল্যাহপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।

নিহত শিশুর নাম হাসান (২)। সে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. তারেক ও তারজিনা আক্তার নিপু দম্পতির সন্তান।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে শিশুটি নিজ বাসার সামনে থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। একই দিন সন্ধ্যার পর একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির বাবাকে ফোন করা হয়। ওই ফোনকলে প্রথমে বারো হাজার টাকা এবং পরে এক লাখ বিশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শিশুর পরিবার দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন আমানউল্ল্যাহপুর এলাকার একটি ডোবায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিপণ দাবি একটি প্রতারণামূলক চক্রের কাজ হতে পারে। এদিকে, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকিদাতা মোবাইল নম্বরটির অবস্থান নওগাঁ জেলার একটি এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনাটি বিভিন্ন দিক থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্তে একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

নিচে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহত শিশুহাসান (২)
পিতা-মাতামো. তারেক ও তারজিনা আক্তার নিপু
ঠিকানাকমলনগর, লক্ষ্মীপুর
নিখোঁজের সময়শনিবার সকাল
মুক্তিপণ দাবিপ্রথমে ১২ হাজার, পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা
উদ্ধার স্থানআমানউল্ল্যাহপুর, দাগনভূঞা
উদ্ধার সময়সোমবার সকাল
তদন্তের অবস্থামোবাইল নম্বরের অবস্থান শনাক্ত, তদন্ত চলমান

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।