মির্জা ফখরুল: ধর্ম ব্যবহার করে দেশে বিভাজনের চেষ্টা রুখতে হবে

ঢাকা শহরের সরকারি সাত কলেজকে একত্রিত করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন করে নগরজীবনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রোববার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাভবন মোড়ে টানা তিন ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের ফলে শাহবাগ, নীলক্ষেত, কাঁটাবন ও আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এবং জলকামান ও রায়টকার প্রস্তুত রাখা হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা সাত কলেজ প্রশাসনিক জটিলতা, সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের শিকার হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি। আন্দোলনকারীরা বলেন, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না হলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাঁদের মতে, একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়বে, শিক্ষক নিয়োগ সহজ হবে এবং শিক্ষার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যে সাতটি কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

কলেজের নামপ্রতিষ্ঠা সালশিক্ষার্থীর আনুমানিক সংখ্যাঅবস্থান
ঢাকা কলেজ১৮৪১৩০,০০০+নিউমার্কেট
ইডেন মহিলা কলেজ১৮৭৩২৫,০০০+আজিমপুর
সরকারি তিতুমীর কলেজ১৯৬৮২০,০০০+মহাখালী
কবি নজরুল সরকারি কলেজ১৮৭৪১৫,০০০+লক্ষ্মীবাজার
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ১৯৪৯১২,০০০+লক্ষ্মীবাজার
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ১৯৪৮১০,০০০+বকশীবাজার
সরকারি বাঙলা কলেজ১৯৬২১৮,০০০+মিরপুর

এদিকে একই দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা ধর্মভীরু মানুষ হলেও ধর্মের নামে রাষ্ট্র বিভাজনের পক্ষপাতী নই।” তাঁর ভাষায়, কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়, যা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য হুমকি।

রোববার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রায় দেড় দশক পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পথে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাইবার জগতে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, তথ্যযুদ্ধ এখন রাজনীতির একটি বড় ক্ষেত্র।

মির্জা ফখরুলের মতে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাষ্ট্রের বহু সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি। তিনি দাবি করেন, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তরুণ সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে তরুণদের মনোভাব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তারা পুরোনো কাঠামো ও চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। তাঁর মতে, পুরোনো রাষ্ট্রকাঠামো আর কার্যকর নেই, তাই বিএনপিকেও নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, “মানুষের দোয়া ও প্রার্থনায় স্রষ্টা নিশ্চয়ই তাঁকে সুস্থ করবেন।”

সব মিলিয়ে, একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কাঠামো সংস্কারের দাবি, অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আলোচনা—দুটিই বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে।