মিরপুরের উইকেট, মুশফিকের শততম: টাইগারদের বড় লক্ষ্য

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ যেন এক বিশেষ সকাল। স্টেডিয়ামের বাতাসে ম্যাচের উত্তেজনার চেয়ে আরও বড় করে ভেসে বেড়াচ্ছে এক ক্রিকেট–গাঁথার সুবাস। কারণ একজন মানুষ—বাংলাদেশ ক্রিকেটের মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক—মুশফিকুর রহীম আজ করছেন তার ১০০তম টেস্টে প্রবেশ। একটি সংখ্যা হয়তো, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি এক বিশাল অর্জনের প্রতীক।

দল, সমর্থক, কর্মকর্তা—সবাই আজ মিরপুরকে দেখছেন ‘মুশফিকের টেস্ট’ হিসেবে। তবুও মুশফিক যেমনটি হন—চুপচাপ, মনোযোগী, কাজে নিবেদিত—তেমনি তিনি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ তার প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি মুশফিককে বর্ণনা করেন একজন “অটল পেশাদার” হিসেবে। তার ভাষায়, “দীর্ঘ ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা খুব কঠিন। কিন্তু মুশফিকের ইচ্ছাশক্তি তাকে এখান পর্যন্ত এনেছে।”

মিরপুরের উইকেট নিয়ে রয়েছে আরেক আলোচনার ধোঁয়াশা। সাধারণত স্পিন–বান্ধব এই উইকেটে এবার ঘাসের উপস্থিতি দ্রুত বোলারদের ভূমিকা বড় করতে পারে। সিমন্স বললেন, প্রথম দুই-দুই-আড়াই দিন ব্যাটিং সুন্দর হবে—এটা নাকি টেস্ট উইকেটের চাহিদাই। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশের পরিকল্পনাও সাজানো।

সিরিজে এগিয়ে থাকা টাইগারদের চোখ এখন সিরিজ জয়ের পাশাপাশি হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে। প্রথম টেস্টে জয়–শান্তর সেঞ্চুরি, স্পিন ত্রয়ীর বিধ্বংসী ধার—সব মিলিয়ে দল দারুণ আত্মবিশ্বাসী। আইরিশরা যদিও কিছুটা প্রতিরোধ দেখিয়েছে, তবে সেটি টাইগারদের তেমন বিপদে ফেলতে পারেনি।

দলে পরিবর্তনের গুঞ্জনও রয়েছে। মিরপুরে একাদশে ফিরে আসতে পারেন ইবাদত হোসেন; অন্যদিকে আইরিশরা স্পিন বাড়াতে গ্যাভিন হোয়েকে আনতে পারে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আলোচনায় একজনই—মুশফিক। ১০০তম টেস্টে তার ব্যাট থেকে কি বিশেষ কিছু দেখা যাবে? সেটাই এখন সমর্থকদের অপেক্ষা।