মিয়ানমারে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত

মিয়ানমারের (বার্মা) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ফালামের ৮১ কিলোমিটার পূর্বে সোমবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল ঢাকার কেন্দ্র থেকে ৪৩১ কিলোমিটার দূরে।

মিয়ানমার ভারতের টেকটোনিক প্লেট ও ইউরেশিয়া প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই অবস্থান দেশটিকে ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা এ সীমান্তকে ‘সাইগং ফল্ট’ নামে চিহ্নিত করেছেন। ফল্টটি মান্দালয় থেকে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত। এর কারণে এই অঞ্চলের লাখো মানুষ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

মধ্যবর্তী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে মাঝে মাঝে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চলতি বছরের ২৮ মার্চ দেশটিতে ৭.৭ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেয়েছিল, যা বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও চীনের কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছিল। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ২০ বছরে মিয়ানমারে এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা বিরল।

মধ্যমাত্রার এই ভূমিকম্প স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত করেছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদিও ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প তীব্র ধ্বংস সাধন করে না, তবে এটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ফল্টলাইনের কাছাকাছি শহর ও গ্রামগুলোর জন্য জরুরি প্রস্তুতি অপরিহার্য।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সীমানার কাছাকাছি এলাকায় ভূমিকম্প-নির্ধারিত বিল্ডিং কোড মেনে চলা, জরুরি ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের ভূমিকম্পপ্রবণ প্রকৃতি এবং টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত আন্দোলনের কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে। তাই দেশটির প্রশাসন ও জনগণকে যথাযথ প্রস্তুতি ও সচেতনতা বজায় রাখতে হবে।

এই ঘটনায় দেখা যায়, মিয়ানমারের ভূমিকম্পপ্রবণ অবস্থান স্থানীয় জনগণের জীবনে কতটা ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প এবং এই ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পই প্রমাণ করে যে, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকতে হবে।